রাজশাহীর সুমিষ্ট হিমসাগর, ল্যাংড়া ও ক্ষীরশাপাতসহ সব রসালো জাতের স্বাদ নিতে এবং খাঁটি ফল চিনতে পড়ুন আমাদের “বাংলাদেশের সেরা আমের গাইড”।
বাংলাদেশকে অনেকেই “আমের দেশ” বলে ডাকেন। এটা মোটেও বাড়িয়ে বলা নয়। গ্রীষ্ম এলেই বাজার, বাগান আর গ্রামের আঙিনা ভরে ওঠে বিভিন্ন রঙ, গন্ধ আর স্বাদের আমে। কেউ খোঁজে অতিরিক্ত মিষ্টি, কেউ আবার হালকা টক-মিষ্টির ভারসাম্য।
বাংলাদেশে প্রায় ২০০+ ধরনের আম চাষ হয়, তবে কিছু জাত তাদের স্বাদ, ঘ্রাণ এবং টেক্সচারের কারণে আলাদা পরিচিতি পেয়েছে।
বাংলাদেশের ১০টি সেরা আমের গাইড
১। হিমসাগর/খিরসাপাত – আমের রাজা

হিমসাগর আম বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচিত ও প্রিয় জাতগুলোর একটি। অনেকেই একে “আমের রাজা” বলে ডাকেন, কারণ স্বাদ, গন্ধ আর মোলায়েম টেক্সচারের এক অসাধারণ সমন্বয় এতে পাওয়া যায়।
সিজন: জুন-জুলাই
প্রধান অঞ্চল: রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষীরা
স্বাদ: অত্যন্ত মিষ্টি, নরম ও রসালো
টেক্সচার: আঁশবিহীন, মুখে গলে যায়
ঘ্রাণ: হালকা কিন্তু প্রাকৃতিকভাবে আকর্ষণীয়
বিশেষত্ব: কাঁচা অবস্থায় সবুজ, পাকলে ভেতরে সোনালি মাংসল রং
কেন আলাদা?
হিমসাগরের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর স্বচ্ছ মিষ্টতা – কোনো তীব্রতা নেই, কোনো জটিলতা নেই। একেবারে সরল কিন্তু গভীর মিষ্টি স্বাদ।
জনপ্রিয়তা
বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলে এটি সমানভাবে জনপ্রিয়। বিশেষ করে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলের হিমসাগর সবচেয়ে বিখ্যাত।
খাওয়ার অভিজ্ঞতা
এক কামড়েই বোঝা যায় – এটা শুধু আম নয়, বরং গ্রীষ্মের একটা মিষ্টি অনুভূতি।
সংক্ষেপে
হিমসাগর মানে সরলতার মধ্যে রাজত্ব, যেখানে মিষ্টি স্বাদই সবচেয়ে বড় শক্তি।
এই মুহূর্তের ট্রেন্ডিং আর্টিকেলগুলো
By Salahuddin Ahmed Azad
/ October 13, 2026
বেসাল ইনসুলিন গ্রহণকারী টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা কন্টিনিউয়াস গ্লুকোজ মনিটরিং (CGM) শুরু করার পর, যারা CGM ব্যবহার করেননি তাদের তুলনায়...
Read More
By Salahuddin Ahmed Azad
/ October 6, 2026
একটি পাওয়ারফুল রেসিপি পুরুষদের দৈনিক শক্তি, কর্মক্ষমতা এবং সারাদিনের উদ্যম ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সকালে ঘুম থেকে...
Read More
By Salahuddin Ahmed Azad
/ October 2, 2026
এ বছর Apple-এর ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টওয়াচ ১২তম প্রজন্মে পা রেখেছে। নতুন প্রজন্মের এই ঘড়িতে এমন কিছু আপগ্রেড আনা হয়েছে, যেগুলো একই...
Read More
By Salahuddin Ahmed Azad
/ September 28, 2026
একসময় পরিধেয় প্রযুক্তির কাজ ছিল মূলত মানুষের কতগুলো স্টেপ হাঁটা হয়েছে বা কত ক্যালরি খরচ হয়েছে, তা হিসাব করা। কিন্তু...
Read More
By Salahuddin Ahmed Azad
/ September 27, 2026
ডেঙ্গু হলে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি নিয়ে রোগী ও পরিবারের সদস্যরা চিন্তিত থাকেন, তার একটি হলো রক্তের প্লেটলেট কমে যাওয়া।...
Read More
By Salahuddin Ahmed Azad
/ September 21, 2026
সকালের ঘুম ঘুম ভাব কাটাতে এক কাপ গরম কফি অনেকেরই প্রিয়। কাজের মাঝে ক্লান্তি দূর করা, মনোযোগ বাড়ানো কিংবা আড্ডায়...
Read More
By Salahuddin Ahmed Azad
/ September 19, 2026
বাঙালির খাবারের কথা উঠলে ভাতের কথা সবার আগে আসে। দুপুরে এক প্লেট ভাত, সঙ্গে মাছ, ডাল, সবজি – এ যেন...
Read More
By Salahuddin Ahmed Azad
/ September 17, 2026
আধুনিক জীবনযাত্রায় মানসিক চাপ বা স্ট্রেস আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যস্ত কর্মজীবন, পারিবারিক দায়িত্ব, আর্থিক দুশ্চিন্তা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের...
Read More
By Salahuddin Ahmed Azad
/ September 10, 2026
গরুর মাংস বা রেড মিট নিয়ে স্বাস্থ্য আলোচনায় অনেক দ্বিধা ও বিতর্ক রয়েছে। কেউ বলেন এটি হৃদরোগ বাড়ায়, আবার কেউ...
Read More
By Salahuddin Ahmed Azad
/ August 29, 2026
ওজন কমাতে লাল চালের ভাত হতে পারে খাবারের স্বাস্থ্যকর অংশ, কারণ এতে আঁশ বেশি থাকে, দীর্ঘসময় পেট ভরা রাখে এবং...
Read More
২। সূর্যডিম (মিয়াজাকি) – আমের জগতের লাল সম্রাট

সিজন: জুন – আগস্ট
অঞ্চল: জাপান (বর্তমানে বাংলাদেশেও পরীক্ষামূলক চাষ হচ্ছে)
স্বাদ: অত্যন্ত মিষ্টি, সমৃদ্ধ ও রসালো ফ্লেভার
টেক্সচার: মাখনের মতো নরম, প্রায় সম্পূর্ণ আঁশবিহীন
ঘ্রাণ: মিষ্টি, ফুলেল ও ট্রপিক্যাল সুবাস
বিশেষত্ব: দৃষ্টিনন্দন লাল রং এবং অসাধারণ মিষ্টতার জন্য বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত
এটা পৃথিবীর সবচেয়ে দামি আম। সূর্যডিম, যা বিশ্বের অনেক দেশে মিয়াজাকি আম নামে পরিচিত, দেখতে যেমন চমকপ্রদ, স্বাদেও তেমনি অসাধারণ। এর উজ্জ্বল লালচে-বেগুনি রং, মাখনের মতো নরম শাঁস এবং উচ্চমাত্রার মিষ্টতা একে বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল আমগুলোর একটি করে তুলেছে।
বাংলাদেশে চাষাবাদ
খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলার ধুমনিঘাট এলাকায় ৩৫ একর জায়গাজুড়ে ব্যক্তিগত একটি কৃষি খামারে ২০১৬ সাল থেকে সূর্যের ডিম আমের চাষাবাদ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩ থেকে ৪ বছর বয়সী প্রায় ১২০টি গাছের প্রতিটিতে ৩০ থেকে ৪০টি পর্যন্ত আম ধরেছে।
কেন আলাদা?
সূর্যডিমের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর অনন্য রং ও প্রিমিয়াম মান। পাকা ফলের গায়ে সূর্যের আভা মাখানো লালচে আভা দেখা যায়, যা সাধারণ আমের তুলনায় একে সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিচয় দেয়। এর শাঁস ঘন, মসৃণ এবং অত্যন্ত মিষ্টি।
জনপ্রিয়তা
জাপানে এটি একটি বিলাসবহুল ফল হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর চাষ ও জনপ্রিয়তা বেড়েছে। বিরলতা ও সৌন্দর্যের কারণে এটি বিশেষ উপহার হিসেবেও সমাদৃত।
খাওয়ার অভিজ্ঞতা
প্রথম কামড়েই মুখ ভরে যায় মধুর মতো মিষ্টি রসে। এর মসৃণ শাঁস ও সূক্ষ্ম সুবাস এমন এক অনুভূতি তৈরি করে, যেন কোনো প্রিমিয়াম ডেজার্ট উপভোগ করছেন।
সংক্ষেপে
সূর্যডিম বা মিয়াজাকি মানে আমের জগতের লাল সম্রাট – চোখধাঁধানো সৌন্দর্য, রাজকীয় মিষ্টতা এবং বিলাসী স্বাদের
৩। আম্রপালি – আধুনিক সুপারস্টার

আম্রপালি মানে আধুনিকতার স্বাদ। ।আম্রপালি বাংলাদেশের তুলনামূলক আধুনিক ও দ্রুত জনপ্রিয় হওয়া একটি আমের জাত। ছোট গাছ, বেশি ফলন আর চমৎকার মিষ্টি স্বাদের কারণে এটি এখন “কমার্শিয়াল সুপারস্টার” হিসেবে পরিচিত।
সিজন: জুলাই – আগস্ট
অঞ্চল: দিনাজপুর, নাটোর, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান
স্বাদ: গভীর মিষ্টি, ঘন ও রিচ ফ্লেভার
টেক্সচার: নরম, জুসি এবং প্রায় আঁশবিহীন
ঘ্রাণ: মিষ্টি ও হালকা ট্রপিক্যাল সুবাস
বিশেষত্ব: ছোট আকারের হলেও স্বাদে অনেক বড় প্রভাব ফেলে
কেন আলাদা?
আম্রপালির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর “কনসিস্টেন্ট কোয়ালিটি” – প্রায় প্রতিটি ফলই সমান মিষ্টি ও সুন্দর। এছাড়া এটি কম জায়গায়ও ভালোভাবে চাষ করা যায়।
জনপ্রিয়তা
বাংলাদেশে এটি এখন খুবই জনপ্রিয়, বিশেষ করে বাণিজ্যিক চাষে। শহরের বাজারে সারা মৌসুমজুড়ে সহজেই পাওয়া যায়।
খাওয়ার অভিজ্ঞতা
এক কামড়েই ঘন মিষ্টি স্বাদ ছড়িয়ে পড়ে। এটা অনেকটা “ডিজার্ট-ইন-এ-ম্যাংগো” অনুভূতির মতো।
সংক্ষেপে
আম্রপালি মানে আধুনিকতার স্বাদ – ছোট আকারে বড় মিষ্টির বিস্ফোরণ।
৪। ল্যাংড়া – স্বাদের ভারসাম্যের রাজা

ল্যাংড়া আম বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী জাত। নামটা একটু অদ্ভুত হলেও স্বাদে এটি একেবারেই “ক্লাসিক ব্যালান্সড” আম—যেখানে টক আর মিষ্টি সুন্দরভাবে মিলেমিশে থাকে।
সিজন: জুন – জুলাই
অঞ্চল: রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষীরা, নওগাঁ ও নাটোর
স্বাদ: টক-মিষ্টির দারুণ ভারসাম্য
টেক্সচার: নরম ও মসৃণ, মাঝারি আঁশযুক্ত
ঘ্রাণ: গভীর, দীর্ঘস্থায়ী আমের সুবাস
বিশেষত্ব: কাঁচা ও পাকা – দুই অবস্থাতেই আলাদা আবেদন থাকে
কেন আলাদা?
ল্যাংড়া আমের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর “কমপ্লেক্স ফ্লেভার”—একদিকে মিষ্টি, অন্যদিকে হালকা টক, আবার সাথে ঘন আমের ঘ্রাণ। এই কারণে এটি শুধু খাওয়ার জন্য নয়, অনেক ডেজার্ট ও জুসেও ব্যবহার করা হয়।
জনপ্রিয়তা
বাংলাদেশের প্রায় সব জেলাতেই এর চাষ হয়, বিশেষ করে রাজশাহী অঞ্চলের ল্যাংড়া আম খুবই বিখ্যাত এবং রপ্তানিতেও যায়।
খাওয়ার অভিজ্ঞতা
প্রথম কামড়েই হালকা টক, তারপর ধীরে ধীরে মিষ্টি স্বাদ ছড়িয়ে পড়ে – একটা “ফ্লেভার জার্নি” বলা যায়।
সংক্ষেপে
ল্যাংড়া মানে স্বাদের ভারসাম্য, যেখানে টক আর মিষ্টি একসাথে গল্প বলে।
আরও পড়ুন আম: রসালো ফলের অসাধারণ স্বাস্থ্য উপকারিতা
৫। হাড়িভাঙা – উত্তরবঙ্গের কিংবদন্তি আম

হাড়িভাঙা আম বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গ, বিশেষ করে রংপুর অঞ্চলের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় জাত। নামটা যেমন মজার, স্বাদ তেমনি অসাধারণ।
সিজন: জুন – জুলাই
অঞ্চল: রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছ ও পদাগঞ্জ এলাকা।
স্বাদ: খুব মিষ্টি, গভীর ফ্লেভার
টেক্সচার: নরম, রসালো এবং আঁশবিহীন
ঘ্রাণ: শক্তিশালী, খাওয়ার আগেই লোভ ধরায়
বিশেষত্ব: গাছ থেকে পেকে পড়লে স্বাদ সবচেয়ে ভালো হয়
কেন আলাদা?
হাড়িভাঙা আমকে অনেকে বলেন “লোকাল প্রিমিয়াম আম”, কারণ এটা দেখতে সাধারণ হলেও স্বাদে অনেক দামি জাতের আমকেও টক্কর দেয়।
জনপ্রিয়তা
রংপুর অঞ্চলের বাইরে এখন এটি সারা দেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, এমনকি অনলাইনেও ব্যাপকভাবে বিক্রি হয়।
সংক্ষেপে
হিমসাগর যদি রাজা হয়, হাড়িভাঙা হলো উত্তরবঙ্গের সাহসী যোদ্ধা, যার শক্তি তার স্বাদেই লুকানো।
৬। কাটিমন – সুবাসের রাজকুমার

কাটিমন আম আসলে থাইল্যান্ড থেকে আনা একটি বারোমাসি আমের প্রজাতি। এই আমট বাংলাদেশে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আকর্ষণীয় রং, মনমাতানো ঘ্রাণ এবং অসাধারণ মিষ্টি স্বাদের কারণে এটি আমপ্রেমীদের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত। দেখতে সুন্দর, খেতে সুস্বাদু – দুই দিক থেকেই কাটিমন একটি অনন্য আম।
সিজন: বারোমাসি
অঞ্চল: চাঁপাইনবাবগঞ্জ (বিশেষ করে শিবগঞ্জ ও নাচোল উপজেলা)।
স্বাদ: গভীর মিষ্টি, মধুর মতো সমৃদ্ধ ফ্লেভার
টেক্সচার: নরম, মসৃণ এবং প্রায় সম্পূর্ণ আঁশবিহীন
ঘ্রাণ: তীব্র, সুগন্ধি ও অত্যন্ত আকর্ষণীয় সুবাস
বিশেষত্ব: খাওয়ার আগেই এর ঘ্রাণ মন জয় করে নেয়
কেন আলাদা?
কাটিমনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর অসাধারণ সুবাস। ঘরে কয়েকটি পাকা কাটিমন রাখলেই চারপাশে মিষ্টি আমের ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ে। এর আঁশবিহীন শাঁস এবং সমৃদ্ধ স্বাদ একে অন্য অনেক জাতের আম থেকে আলাদা করেছে।
জনপ্রিয়তা
বাংলাদেশে কাটিমনের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে যারা সুগন্ধি ও প্রিমিয়াম মানের আম পছন্দ করেন, তাদের কাছে এটি অত্যন্ত কাঙ্ক্ষিত একটি জাত।
খাওয়ার অভিজ্ঞতা
প্রথম কামড়েই মধুর মতো মিষ্টি স্বাদ এবং মনভোলানো সুবাস মুখজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। মনে হবে যেন একটি ফল নয়, বরং প্রকৃতির তৈরি কোনো সুগন্ধি মিষ্টান্ন খাচ্ছেন।
সংক্ষেপে
কাটিমন মানে সুবাসের রাজকুমার – প্রতিটি কামড়ে মিষ্টি স্বাদ আর মনমুগ্ধকর ঘ্রাণের অনন্য অভিজ্ঞতা।
৭। ফজলি – বড় সাইজের মিষ্টি সম্রাট

ফজলি আম মানেই “বড় আর ভারী”।
সিজন: জুলাই – আগস্ট
অঞ্চল: রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ
স্বাদ: মাঝারি থেকে বেশি মিষ্টি
টেক্সচার: একটু আঁশযুক্ত
বিশেষত্ব: একেকটা আমে অনেকটা ফলের মাংস
কেন জনপ্রিয়?
পরিবার নিয়ে খাওয়ার জন্য বা বাজারে “ভ্যালু ফর মনি” আম হিসেবে ফজলি দারুণ।
৮। গোপালভোগ – সুগন্ধির রাজা

সিজন: মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে জুনের মাঝামাঝি
অঞ্চল: সাতক্ষীরা, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
স্বাদ: হালকা মিষ্টি, খুব রিফ্রেশিং
গন্ধ: অত্যন্ত সুগন্ধি
সময়: খুব আগেই বাজারে আসে
কেন আলাদা?
যারা খুব বেশি মিষ্টি না, বরং ফ্রেশ আম পছন্দ করেন, তাদের জন্য আদর্শ।
৯। রানী পছন্দ – রাজকীয় স্বাদের রানি

নামেই যার রাজকীয়তা, স্বাদেও সে তেমনি অনন্য। রানী পছন্দ বাংলাদেশের একটি সুপরিচিত ও অভিজাত আমের জাত। এর আকর্ষণীয় রূপ, মসৃণ শাঁস এবং ভারসাম্যপূর্ণ মিষ্টতা একে আমপ্রেমীদের কাছে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে।
সিজন: মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে জুন মাস পর্যন্ত
অঞ্চল: রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ এবং নাটোর
স্বাদ: মোলায়েম মিষ্টি, পরিমিত ও পরিশীলিত ফ্লেভার
টেক্সচার: নরম, মাখনের মতো মসৃণ এবং প্রায় আঁশবিহীন
ঘ্রাণ: কোমল, মিষ্টি ও মনোরম সুবাস
বিশেষত্ব: অতিরিক্ত মিষ্টি নয়, বরং ভারসাম্যপূর্ণ স্বাদের জন্য বিখ্যাত
কেন আলাদা?
রানী পছন্দের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর পরিশীলিত স্বাদ। যারা অতিরিক্ত মিষ্টির বদলে একটি সুষম ও মার্জিত আমের স্বাদ খুঁজে থাকেন, তাদের জন্য এটি আদর্শ। এর বড় আকার ও সুন্দর গঠনও একে বিশেষ করে তোলে।
জনপ্রিয়তা
যদিও বাণিজ্যিকভাবে অন্যান্য কিছু জাতের মতো ব্যাপক নয়, তবুও আমের প্রকৃত রসিকদের কাছে রানী পছন্দ একটি সম্মানিত নাম। বিশেষ করে উপহার দেওয়ার জন্য এটি অনেকের পছন্দের তালিকায় থাকে।
খাওয়ার অভিজ্ঞতা
প্রথম কামড়েই মুখে ছড়িয়ে পড়ে কোমল মিষ্টতা ও সূক্ষ্ম সুবাস। প্রতিটি টুকরো খেতে খেতে মনে হবে যেন ধীরে ধীরে কোনো রাজকীয় মিষ্টান্নের স্বাদ উপভোগ করছেন।
সংক্ষেপে
রানী পছন্দ মানে রাজকীয় স্বাদের রানি – সৌন্দর্য, সুবাস ও পরিশীলিত মিষ্টতার এক অপূর্ব সমন্বয়।
১০। আশ্বিনা – দেরিতে আসা ভারী স্বাদ

সিজন: জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ
অঞ্চল: চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর
স্বাদ: মিষ্টি + হালকা টক
টেক্সচার: শক্ত, আঁশযুক্ত
বিশেষত্ব: দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য
কেন জনপ্রিয়?
বর্ষার শেষের দিকে আম খেতে চাইলে আশ্বিনা একদম পারফেক্ট।
বাংলাদেশী আমের তুলনামূলক স্বাদ গাইড
| আমের নাম |
মিষ্টতা |
গঠন |
স্বাদ |
| হিমসাগর |
⭐⭐⭐⭐⭐ |
নরম |
মিষ্টি এবং সুবাসিত |
| সূর্যডিম/মিয়াজাকি |
⭐⭐⭐⭐⭐ |
মাখনের মতো নরম |
মিষ্টি, ট্রপিক্যাল |
| আম্রপালি |
⭐⭐⭐⭐⭐ |
মসৃণ |
মিষ্টি, এক্সটিক |
| ল্যাংড়া |
⭐⭐⭐⭐ |
মাঝারি |
সুষম |
| কাটিমন |
⭐⭐⭐⭐ |
মসৃণ |
মিষ্টি এবং সুবাসিত |
| ফজলি |
⭐⭐⭐ |
মাঝারি আঁশ |
সাইজ বড় কিন্তু টেস্ট ছোট |
| গোপালভোগ |
⭐⭐⭐ |
নরম |
সুগন্ধি |
| আশ্বিনা |
⭐⭐ |
শক্ত |
আশ্বিনার টেস্ট আশ্বিনার মতই |
তাহলে কোনটা সেরা?
সত্যি বলতে কোনো একক “বেস্ট আম” নেই। কারণ আমের স্বাদ নির্ভর করে:
- পাকার সময়
- গাছের বয়স
- মাটির ধরন
- খাওয়ার ব্যক্তিগত পছন্দ
আমার পছদ
১ নম্বর -> হিমসাগর – আমের রাজা।
২ নম্বর -> আম্রপালি – সুস্বাদু এবং এক্সোটিক টেস্ট।
৩ নম্বর -> ল্যাংড়া – স্বাদে মিষ্টি।
আম নিয়ে ছোট ছড়া
গাছের ডালে ঝুলছে দেখো রূপের রানী,
মুখে দিলেই জিভে আসে মিষ্টি পানি।
খোসা তাহার সবুজ বরণ, মন যে কাড়ে,
গন্ধ তাহার মাতাল হাওয়ায় ছড়িয়ে পড়ে
হিমসাগর যে আমের রাজা, সবাই কয়,
একটি খেলে তৃপ্তিতে মন জুড়িয়ে রয়।