শরীর ও মন সুস্থ রাখতে প্রতিদিনের খাবারে শাকসবজি, ফল, প্রোটিন ও শস্য মিশিয়ে সুষম খাদ্য তালিকা অনুসরণ করা জীবনমান উন্নত করার অন্যতম মূল চাবিকাঠি।
“সুস্থ শরীরে সুস্থ মন” – এই প্রবাদ আমরা সবাই জানি। কিন্তু বাস্তবে বেশিরভাগ মানুষই সঠিকভাবে খাওয়া-দাওয়া মানেন না। ব্যস্ততা, অগোছালো জীবনযাপন আর ফাস্টফুডের প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণ আমাদের শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। অথচ একটু সচেতন হয়ে যদি প্রতিদিনের খাবারের চার্ট তৈরি করা যায়, তাহলে সুস্থ জীবনধারা বজায় রাখা অনেক সহজ হয়।
আজ আমরা জানব – একটি সুষম খাদ্য তালিকা (Balanced Diet Chart) কেমন হতে পারে, যেখানে থাকবে সকালের নাশতা, মাঝ সকালের স্ন্যাক্স, দুপুরের লাঞ্চ, বিকেলের স্ন্যাক্স, রাতের ডিনার, এবং হেলদি স্ন্যাক্স।
একটি সুষম খাদ্য তালিকা
সকালের নাস্তা
দিনের শুরুটা যেন শক্তি ও সতেজতায় ভরপুর হয়, সেজন্য ব্রেকফাস্টে রাখতে হবে প্রোটিন, ফাইবার আর ভিটামিন।
কি খাবেন:
- ২টা সিদ্ধ ডিম বা অমলেট
- ২ টুকরো ব্রাউন ব্রেড/ওটস
- এক গ্লাস দুধ বা দই
- ফল (আপেল/কলা/কমলা)
- কফি
👉 সকালের নাস্তায় ভারী খাবার খাওয়া জরুরি নয়, বরং হালকা ও এনার্জি-সমৃদ্ধ খাবারই আপনাকে দীর্ঘ সময় কর্মক্ষম রাখবে।
মাঝ সকাল
ব্রেকফাস্টের ২-৩ ঘণ্টা পর হালকা ক্ষুধা লাগে। তখন স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস খাওয়া উচিত।
কি খাবেন:
- এক মুঠো বাদাম (আলমন্ড/আখরোট/কাজু)
- এক কাপ গ্রিন টি/হারবাল টি
- মৌসুমি ফল (পেঁপে/বেদানা/আঙুর)
👉 এই সময়ে চিপস বা বিস্কুট না খেয়ে প্রাকৃতিক খাবার খেলে হজম ভালো থাকে, মাথা ভার হয় না।
দুপুরের খাবার
দুপুরের খাবার হলো দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মেইল। এটি হওয়া উচিত ভারসাম্যপূর্ণ।
কি খাবেন:
- ভাত (ব্রাউন রাইস হলে ভালো)
- ডাল/মাছ/মুরগির মাংস
- প্রচুর শাকসবজি (পালং শাক, ব্রোকলি, গাজর)
- সালাদ (শসা, টমেটো, গাজর, পেঁয়াজ)
- এক গ্লাস লেবুর শরবত (চিনি ছাড়া)
👉 দুপুরে অতিরিক্ত ভাত না খেয়ে বেশি করে শাকসবজি খেলে শরীর হালকা থাকে, কাজের এনার্জি বাড়ে।

বিকেলের নাশতা
লাঞ্চের ৩-৪ ঘণ্টা পর শরীর আবার এনার্জি চায়। এই সময়ে হালকা কিছু খেতে হবে, কিন্তু জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলা উচিত।
কি খাবেন:
- এক কাপ গ্রিন টি বা লো-ফ্যাট দুধ চা
- এক মুঠো চিনাবাদাম বা কাজুবাদাম
- ১টা কলা বা আপেল
👉 অনেকেই এই সময়ে তেলেভাজা খাবার খেতে চান, কিন্তু এগুলো শরীরকে ক্লান্ত করে দেয়।
এই মুহূর্তের ট্রেন্ডিং আর্টিকেলগুলো
রাতের খাবার
ডিনার সবসময় হওয়া উচিত হালকা। কারণ খাওয়ার পর শরীর বিশ্রামে চলে যায়, এনার্জি খরচ কম হয়।
কি খাবেন:
- হালকা ভাত বা রুটি
- ডাল/মাছ/মুরগির স্যুপ
- প্রচুর শাকসবজি
- এক গ্লাস দুধ (যদি ইচ্ছে হয়)
👉 ডিনারে অতিরিক্ত মাংস বা ভাজাপোড়া খাবার খাবেন না। এতে হজমে সমস্যা হয় আর ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়।
স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস
কাজের ফাঁকে কিংবা টিভি দেখার সময় অনেকে চিপস, ফ্রাইড ফুড বা সফট ড্রিঙ্কস খেয়ে ফেলেন। এগুলো শরীরের জন্য ক্ষতিকর। বরং হালকা ও স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস বেছে নিন।
কি খেতে পারেন:
- ভুট্টা (সেদ্ধ/ভাজা)
- দই (ফল মিশিয়ে)
- খেজুর বা কিশমিশ
- ওটস বার বা গ্র্যানোলা বার
- নারকেলের পানি
👉 এগুলো ক্ষুধা মেটায়, পেট ভরায় এবং শরীরকে ফ্রেশ রাখে।
সারসংক্ষেপ
একটি ব্যালান্সড ডায়েট চার্ট মানে হলো – দিনে ছোট ছোট ভাগে খাবার খাওয়া। এতে শরীর কখনো অতিরিক্ত চাপ পায় না, হজম ভালো হয়, এনার্জি বজায় থাকে।
👉 সকালের নাস্তা ভারসাম্যপূর্ণ, দুপুরে শাকসবজি-প্রধান, বিকেলে হালকা, আর রাতে খুব হালকা খাবার – এটাই সুস্থ জীবনের সঠিক নিয়ম।








