নুইনা শাকের উপকারিতা হলো এটি ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ হওয়ায় হজমশক্তি ভালো রাখতে, শরীরের পুষ্টির চাহিদা পূরণে এবং সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক।
এক সময় ঢাকার কাঁচাবাজারে গেলে নুইনা শাক খুব সহজেই চোখে পড়ত। বিশেষ করে পুরান ঢাকার বাজারগুলোতে এই শাকের বেশ কদর ছিল। আজকাল আধুনিক সবজির ভিড়ে নুইনা শাক অনেকটাই হারিয়ে গেছে। নতুন প্রজন্মের অনেকেই এই শাকের নাম পর্যন্ত শোনেননি।
কিন্তু পুরান ঢাকার মানুষ জানেন, নুইনা শাক দিয়ে গরুর মাংস এমন একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার, যার স্বাদ একবার খেলে সহজে ভোলা যায় না। নরম, সামান্য টক-নোনতা স্বাদের এই শাক গরুর মাংসের সঙ্গে রান্না করলে তৈরি হয় অসাধারণ সুস্বাদু একটি পদ।
শুধু স্বাদেই নয়, পুষ্টিগুণেও নুইনা শাক সত্যিকারের একটি সুপারফুড।
নুইনা শাক কী?
নুইনা শাকের বৈজ্ঞানিক নাম Portulaca oleracea। ইংরেজিতে এটি Common Purslane বা Garden Purslane নামে পরিচিত।
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি বিভিন্ন নামে পরিচিত যেমন নুইনা শাক, নুনিয়া শাক, ও নোনিয়া শাক।
এটি একটি ছোট, মাটিতে বিছিয়ে বেড়ে ওঠা রসালো (succulent) উদ্ভিদ। এর কাণ্ড লালচে এবং পাতাগুলো ছোট, গোলাকার ও মোটা হয়। সাধারণত বর্ষাকালে এটি বেশি জন্মায়।
অনেক দেশে একসময় এটিকে আগাছা হিসেবে ফেলে দেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে বিজ্ঞানীরা এর অসাধারণ পুষ্টিগুণ আবিষ্কার করার পর বিশ্বের অনেক দেশেই এটি স্বাস্থ্যকর সবজি হিসেবে চাষ করা হচ্ছে।

কেন নুইনা শাককে সুপারফুড বলা হয়?
নুইনা শাকে রয়েছে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় বহু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান।
এর মধ্যে রয়েছে –
- ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড
- ভিটামিন A
- ভিটামিন C
- ভিটামিন E
- কিছু B ভিটামিন
- ম্যাগনেশিয়াম
- পটাশিয়াম
- ক্যালসিয়াম
- আয়রন
- ফাইবার
- শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
এই মুহূর্তের ট্রেন্ডিং আর্টিকেলগুলো
বিশেষ বিষয় হলো, সাধারণ সবুজ শাকের তুলনায় নুইনা শাকে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। উদ্ভিদজাত খাবারের মধ্যে এটি একটি উল্লেখযোগ্য উৎস হিসেবে পরিচিত।
নুইনা শাকের ১০টি স্বাস্থ্য উপকারিতা
১. হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদ্যন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি রক্তের ক্ষতিকর চর্বি কমাতে, প্রদাহ হ্রাস করতে এবং রক্তনালীর স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে নুইনা শাক খেলে হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে।
২. শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস
নুইনা শাকে রয়েছে –
- বেটা-ক্যারোটিন
- ভিটামিন C
- ভিটামিন E
- গ্লুটাথায়োন
- বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
এগুলো শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক
ভিটামিন C এবং অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে কার্যকর রাখতে সাহায্য করে।
বর্ষাকালে বিভিন্ন সংক্রমণের সময় পুষ্টিকর শাকসবজি খাদ্যতালিকায় রাখা উপকারী হতে পারে।
৪. চোখের জন্য ভালো
নুইনা শাকে প্রচুর পরিমাণে বেটা-ক্যারোটিন ও ভিটামিন A রয়েছে।
এগুলো –
- রাতকানা প্রতিরোধে সহায়তা করে
- চোখের স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে
- বয়সজনিত চোখের সমস্যার ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে

৫. হাড় মজবুত রাখতে সাহায্য করে
নুইনা শাকে রয়েছে –
- ক্যালসিয়াম
- ম্যাগনেশিয়াম
- পটাশিয়াম
এই খনিজগুলো হাড় ও দাঁতের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
৬. হজমে সহায়ক
- নুইনা শাকে থাকা খাদ্যআঁশ (ফাইবার)
- কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে
- অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখে
- উপকারী অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে পারে
৭. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নুইনা শাক রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এটি ডায়াবেটিসের ওষুধের বিকল্প নয়।
ডায়াবেটিস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকায় এটি যোগ করা উচিত।
৮. ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
নুইনা শাকে ক্যালোরি খুব কম কিন্তু ফাইবার বেশি।
ফলে এটি –
- দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে
- অতিরিক্ত খাওয়া কমাতে সহায়তা করতে পারে
- স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে
৯. ত্বকের জন্য উপকারী
ভিটামিন A, C এবং E ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এগুলো –
- ত্বকের ক্ষয় কমাতে সাহায্য করে
- কোলাজেন তৈরিতে ভূমিকা রাখে
- ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে
ধন্যবাদ! আপনি ঠিকই ধরেছেন। আর্টিকেলটি আরও পরিপূর্ণ করতে নিচের ১০ নম্বর স্বাস্থ্য উপকারিতা যোগ করতে পারেন।
১০. শরীরে পানি ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে
নুইনা শাকের পাতায় প্রাকৃতিকভাবে পানির পরিমাণ অনেক বেশি। এছাড়া এতে পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ রয়েছে, যা শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।
গরমের সময় বা অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে পানি ও খনিজ বেরিয়ে গেলে পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা উপকারী হতে পারে। নুইনা শাকও এমন একটি পুষ্টিকর দেশীয় শাক, যা স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে শরীরের স্বাভাবিক জলীয় ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
নুইনা শাকের একটি মজাদার রেসিপি
ঢাকাইয়াদের প্রিয় খাবার নুইনা শাক দিয়ে গরুর মাংস

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী রান্নার কথা উঠলেই কয়েকটি খাবারের নাম সবার আগে আসে। তার মধ্যে অন্যতম হলো নুইনা শাক দিয়ে গরুর মাংস।
ধীরে ধীরে রান্না করা নরম গরুর মাংসের সঙ্গে যখন নুইনা শাক মিশে যায়, তখন শাকের হালকা টক-নোনতা স্বাদ মাংসের ঝোলকে অন্যরকম গভীরতা দেয়।ক
অনেক পুরান ঢাকার পরিবারে বর্ষাকালে এই রান্না এখনও বিশেষভাবে করা হয়। গরম ভাতের সঙ্গে এই পদ পরিবেশন করা হলে আলাদা কোনো তরকারির প্রয়োজনই পড়ে না।
এটি শুধু একটি খাবার নয়; পুরান ঢাকার খাদ্যসংস্কৃতির একটি স্মৃতি, যা একসময় বহু পরিবারের নিয়মিত রান্নার অংশ ছিল।
উপকরণ
- গরুর মাংস – ১ কেজি (মাঝারি টুকরো)
- নুইনা শাক – ৫০০–৬০০ গ্রাম (ভালোভাবে ধুয়ে কুচি করা)
- পেঁয়াজ কুচি – ২ কাপ
- আদা বাটা – ২ টেবিল চামচ
- রসুন বাটা – ২ টেবিল চামচ
- টক দই – ২ টেবিল চামচ (ঐচ্ছিক, মাংস নরম করার জন্য)
- সরিষার তেল – ½ কাপ
- কাঁচা মরিচ – ৮–১০টি
- ধনেপাতা কুচি – ½ কাপ
- গুঁড়ো মসলা
- হলুদ গুঁড়ো – ১ চা চামচ
- মরিচ গুঁড়ো – ২ চা চামচ
- ধনে গুঁড়ো – ২ চা চামচ
- জিরা গুঁড়ো – ১½ চা চামচ
- গোলমরিচ গুঁড়ো – ½ চা চামচ
- ভাজা জিরা গুঁড়ো – ১ চা চামচ
- গোটা মসলা
- তেজপাতা – ২টি
- দারুচিনি – ২ টুকরা
- এলাচ – ৫টি
- লবঙ্গ – ৬টি
- শুকনা মরিচ – ২টি
- লবণ – স্বাদমতো
- গরম মসলা গুঁড়ো – ১ চা চামচ
- ঘি – ১ টেবিল চামচ (ঐচ্ছিক)
রন্ধন প্রণালী
ধাপ ১: মাংস মেরিনেট করুন
গরুর মাংসের সঙ্গে মিশিয়ে নিন –
- আদা বাটা
- রসুন বাটা
- অর্ধেক পেঁয়াজ
- হলুদ
- মরিচ গুঁড়ো
- ধনে গুঁড়ো
- জিরা গুঁড়ো
- লবণ
- টক দই
সবকিছু ভালোভাবে মেখে কমপক্ষে ১ ঘণ্টা রেখে দিন। সময় থাকলে ৩–৪ ঘণ্টা বা ফ্রিজে সারা রাত রাখলে আরও ভালো।
ধাপ ২: নুইনা শাক প্রস্তুত করুন
নুইনা শাকের মোটা ডাঁটা ফেলে দিন।
পাতা ও কোমল ডাঁটা ভালোভাবে ৩–৪ বার ধুয়ে নিন, কারণ এতে অনেক সময় বালু বা মাটি লেগে থাকে।
তারপর মোটামুটি কুচি করে রাখুন।
ধাপ ৩: মাংস কষানো
একটি ভারী তলার হাঁড়িতে সরিষার তেল গরম করুন।
এরপর দিন –
- তেজপাতা
- দারুচিনি
- এলাচ
- লবঙ্গ
- শুকনা মরিচ
সুগন্ধ বের হলে বাকি পেঁয়াজ দিয়ে সোনালি হওয়া পর্যন্ত ভাজুন।
এরপর মেরিনেট করা মাংস দিয়ে মাঝারি আঁচে ২০–২৫ মিনিট ভালোভাবে কষান।
তেল ওপরে ভেসে উঠলে বুঝবেন কষানো ঠিকমতো হয়েছে।
ধাপ ৪: মাংস সিদ্ধ করা
এবার প্রয়োজনমতো গরম পানি দিন।
ঢেকে দিন।
মাঝারি থেকে কম আঁচে ৪৫–৬০ মিনিট রান্না করুন অথবা মাংস নরম হওয়া পর্যন্ত।
প্রেশার কুকার ব্যবহার করলে ২০–২৫ মিনিট যথেষ্ট।
ধাপ ৫: নুইনা শাক যোগ করুন
মাংস প্রায় সিদ্ধ হয়ে এলে কুচি করা নুইনা শাক দিয়ে দিন।
প্রথমে মনে হবে শাক অনেক বেশি।
কিন্তু কয়েক মিনিট পরই শাক গলে যাবে এবং নিজের পানি ছেড়ে দেবে।
ভালোভাবে নেড়ে মিশিয়ে দিন।
ধাপ ৬: ধীরে ধীরে রান্না করুন
কম আঁচে ২০–৩০ মিনিট রান্না করুন।
এই সময় নুইনা শাক মাংসের সঙ্গে মিশে ঘন ঝোল তৈরি করবে।
প্রয়োজনে লবণ দেখে নিন।
ধাপ ৭: শেষ স্পর্শ
শেষে দিয়ে দিন –
- কাঁচা মরিচ
- ভাজা জিরা গুঁড়ো
- গরম মসলা
ইচ্ছা করলে ১ টেবিল চামচ ঘি দিতে পারেন।
এরপর ঢেকে ১০ মিনিট দমে রাখুন।

পরিবেশন
গরম গরম পরিবেশন করুন –
- সাদা ভাত
- আতপ চালের ভাত
- কালোজিরার ভাত
- খিচুড়ি
তবে পুরান ঢাকার ঘরানায় এটি সাধারণত গরম সাদা ভাত বা পরোটার সাথেই খাওয়া হয়।
সুস্বাদু রান্নার কয়েকটি টিপস
✅ সরিষার তেলে রান্না করলে আসল ঢাকাইয়া স্বাদ আসে।
✅ মাংস ভালোভাবে কষানোই এই রান্নার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
✅ নুইনা শাক আগে ভেজে দেবেন না। সরাসরি মাংসের সঙ্গে দিলে এর স্বাদ ও পুষ্টিগুণ ভালো থাকে।
✅ শাক দেওয়ার পর খুব বেশি পানি দেবেন না। নুইনা শাক নিজেই অনেকটা পানি ছেড়ে দেয়।
✅ রান্নাটি একটু ঘন ঝোলের হলে সবচেয়ে সুস্বাদু লাগে।
ঢাকাইয়া ঐতিহ্যের স্বাদ

পুরান ঢাকার অনেক পরিবারে বর্ষাকালে বাজারে নুইনা শাক উঠলেই এই রান্না করা হতো। ধীরে ধীরে কষানো গরুর মাংস, নরম হয়ে যাওয়া নুইনা শাক এবং সরিষার তেলের হালকা ঝাঁঝ—সব মিলিয়ে এটি শুধু একটি খাবার নয়, বরং পুরান ঢাকার বহু বছরের খাদ্য ঐতিহ্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। আজও যারা একবার নুইনা শাক দিয়ে গরুর মাংস খেয়েছেন, তারা এর স্বাদ সহজে ভুলতে পারেন না।
নুইনা শাক আর কীভাবে রান্না করা হয়?
বাংলাদেশে নুইনা শাক বিভিন্নভাবে রান্না করা হয়।
যেমন –
- গরুর মাংস দিয়ে
- চিংড়ি দিয়ে
- ছোট মাছ দিয়ে
- ডাল দিয়ে
- রসুন ও শুকনা মরিচ দিয়ে ভাজি
- মিশ্র শাক হিসেবে
তবে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং ঐতিহ্যবাহী পদ নিঃসন্দেহে নুইনা শাক দিয়ে গরুর মাংস।
নুইনা শাক খাওয়ার সময় সতর্কতা
যেহেতু নুইনা শাক মাটির খুব কাছাকাছি জন্মায়, তাই এটি রান্নার আগে ভালোভাবে কয়েকবার ধুয়ে নেওয়া জরুরি।
এছাড়া নুইনা শাকে প্রাকৃতিকভাবে অক্সালেট (Oxalate) থাকে। যাদের কিডনিতে ক্যালসিয়াম অক্সালেট ধরনের পাথর হওয়ার প্রবণতা রয়েছে, তাদের অতিরিক্ত পরিমাণে নিয়মিত খাওয়ার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
কেন এই শাককে আবার জনপ্রিয় করা উচিত?
আজকের দিনে আমরা বিদেশি নানা “সুপারফুড” নিয়ে যতটা আগ্রহী, আমাদের দেশীয় অনেক পুষ্টিকর শাক-সবজি ততটাই অবহেলিত। নুইনা শাক তার অন্যতম উদাহরণ।
একদিকে এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর, অন্যদিকে সহজে জন্মায়, কম খরচে উৎপাদন করা যায় এবং পরিবেশবান্ধব। স্থানীয় কৃষকরা যদি আবার এর চাষে উৎসাহ পান, তাহলে এটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি কৃষি বৈচিত্র্য বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
শেষকথা
নুইনা শাক হয়তো আজ আর আগের মতো প্রতিটি বাজারে দেখা যায় না, কিন্তু নুইনা শাকের স্বাস্থ্য উপকারিতা, পুষ্টিগুণ এবং ঐতিহ্যগত গুরুত্ব কোনো অংশেই কম নয়। বিশেষ করে পুরান ঢাকার বিখ্যাত নুইনা শাক দিয়ে গরুর মাংস শুধু একটি সুস্বাদু খাবার নয়, বরং আমাদের খাদ্য ঐতিহ্যের একটি মূল্যবান অংশ।
দেশীয় এই শাককে নতুন করে চিনে নেওয়া এবং খাদ্যতালিকায় স্থান দেওয়া হতে পারে সুস্বাস্থ্য ও ঐতিহ্য – দুই-ই ধরে রাখার একটি সুন্দর উপায়।
✍️ লেখক: সালাহউদ্দিন আহমেদ আজাদ
📅 সর্বশেষ হালনাগাদ: ১৩ আগস্ট, ২০২৬
📚 তথ্যসূত্র: PubMed | WHO | NIH | CDC
মেডিকেল ডিসক্লেইমার:
এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। বিভিন্ন স্বীকৃত জার্নালে প্রকাশিত গবেষণার ভিত্তিতে পাঠকদের সুস্থ ও সুন্দর জীবনযাপনে সহায়তার উদ্দেশ্যে এই আর্টিকেলটি লেখা হয়েছে। এটি কোনোভাবেই ডাক্তারি পরামর্শ নয়। ব্যক্তিগত শারীরিক সমস্যা, রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার জন্য অবশ্যই যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।








