Home অসুখ-বিসুখ ইনসুলিন সেন্সিটিভিটি: সুস্থতার গোপন চাবিকাঠি না বুঝলে বিপদ!

ইনসুলিন সেন্সিটিভিটি: সুস্থতার গোপন চাবিকাঠি না বুঝলে বিপদ!

300
0
ইনসুলিন সেন্সিটিভিটি

ইনসুলিন সেন্সিটিভিটি ভালো থাকলে শরীর কম ইনসুলিনেই রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে, যা ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সহায়ক।

ইনসুলিন আসলে কী?

ইনসুলিন হলো একটি হরমোন, যেটা তৈরি হয় আপনার অগ্ন্যাশয় (pancreas) থেকে। এর প্রধান কাজ হলো:

রক্তে থাকা গ্লুকোজ (blood sugar) কে কোষে পৌঁছে দেওয়া — যেন কোষগুলো সেই গ্লুকোজ ব্যবহার করে শক্তি তৈরি করতে পারে।

আপনি যখন ভাত, রুটি বা মিষ্টি খান, তখন গ্লুকোজ বেড়ে যায়। ইনসুলিন তখন বলে:

“চলো সবাই, এই চিনিটা কোষে নিয়ে যাই!”

ইনসুলিন সেন্সিটিভিটি মানে কী?

“সেন্সিটিভিটি” মানে হলো কোষ ইনসুলিনকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে শুনছে।

যদি ইনসুলিন সেন্সিটিভিটি বা ইনসুলিন সংবেদনশীলতা ভালো থাকে, তাহলে খুব অল্প ইনসুলিনেই রক্তের শর্করা ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকে।

যদি সেন্সিটিভিটি কমে যায়, ইনসুলিন বারবার ডাকছে, কিন্তু কোষ বলছে, “আজ না ভাই, পরে কথা বলি।” – একেই বলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, যা টাইপ ২ ডায়াবেটিসের বড় কারণ!

ইনসুলিন সেন্সিটিভিটি খারাপ হলে কী হয়?

খারাপ সেন্সিটিভিটি মানেই ইনসুলিন বেশি বেশি তৈরি হচ্ছে। এর ফলে:

  • ওজন বাড়ে (বিশেষ করে পেটের মেদ)
  • আপনি সবসময় ক্লান্ত অনুভব করেন
  • মাথা ঝিমঝিম করে
  • টাইপ ২ ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা বাড়ে
  • হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ে

কিভাবে ইনসুলিন সেন্সিটিভিটি ভালো রাখা যায়?

ভয়ের কিছু নেই! নিচের টিপসগুলো অনুসরণ করলে ইনসুলিন সেন্সিটিভিটি নাচতে নেমে পড়বেঃ

১. নিয়মিত ব্যায়াম করুন

ওয়ার্কআউট করলেই কোষগুলো ইনসুলিনের কথা ভালোভাবে শুনে।

দিনে মাত্র ৩০ মিনিট হাঁটাহাঁটি করলেই কাজ হয়।

শক্তিশালী ব্যায়াম (যেমন: স্কোয়াট, পুশ-আপ) করলে আরও ভালো।

২. কম কার্ব, বেশি ফাইবার

চিনি আর সাদা ময়দা কম খাও, ভাই!

লাল চাল, ওটস, ব্রাউন ব্রেড – এগুলোর ফাইবার ইনসুলিন সেন্সিটিভিটি বাড়ায়।

সবজি-ভরপুর সালাদ খাওয়ার অভ্যাস গড়ো।

৩. ঘুম ঠিক রাখো

কম ঘুম ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়ায়।

প্রতি রাত কমপক্ষে ৭ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন।

৪. স্ট্রেস কমাও

মানসিক চাপ থাকলে কর্টিসল বেড়ে যায়, যা ইনসুলিনকে ব্লক করে দেয়।

মেডিটেশন, প্রার্থনা, হালকা গান শুনে স্ট্রেস কমাও।

৫. প্রক্রিয়াজাত খাবার বাদ দিন

চিপস, কোলা, কেক– এসব ফাস্ট ফুড ইনসুলিন সেন্সিটিভিটি ধ্বংস করে দেয়।

যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক খাবার খাও — মাছ, ডিম, শাক-সবজি

৬. অন্তঃকালীন উপবাস (Intermittent Fasting) চেষ্টা করো

খাওয়া আর না খাওয়ার মাঝে ১২–১৬ ঘণ্টার বিরতি দিলে ইনসুলিন রিসেপ্টরগুলো রিফ্রেশ হয়ে যায়।

৭. ওমেগা-৩ ফ্যাট খান

সামুদ্রিক মাছ (যেমন: স্যামন, সারডিন), চিয়া সিড, বাদামে থাকে ওমেগা-৩ যা ইনসুলিন সেন্সিটিভিটিকে উন্নত করে।

কোন টেস্টে বোঝা যায়?

আপনার ইনসুলিন সেন্সিটিভিটি কেমন – তা জানতে পারেন এইসব টেস্টে:

  • Fasting Insulin Level
  • HOMA-IR Calculation
  • Glucose Tolerance Test (OGTT)

এগুলো আপনার ডাক্তার প্রেসক্রাইব করলে করিয়ে নিতে পারেন।

ইনসুলিন সেন্সিটিভিটি ভালো রাখলে আপনি পাবেন:

  • বেশি এনার্জি
  • সহজে ওজন কমানো যাবে
  • ব্রেইন থাকবে শার্প
  • হৃদরোগের ঝুঁকি কমবে
  • দীর্ঘায়ু বাড়বে!

শেষ কথা

ইনসুলিন হলো শরীরের “চাবিওয়ালা”, আর কোষ হলো “তালা”। ইনসুলিন সেন্সিটিভিটি ভালো মানেই, চাবি ঠিকভাবে তালা খুলছে।

আর খারাপ মানে? তালা আটকে গেছে, ঘাম ঝরিয়ে দরজা খুলছে না!

তাই এখনই সময় –

খান স্বাস্থ্যকর খাবার, চলুন একটু বেশি হাঁটুন, আর ইনসুলিন সেন্সিটিভিটিকে বানান আপনার ফিটনেস পার্টনার!

মূল তথ্যসমূহ:

  1. ইনসুলিন হরমোন রক্তের চিনিকে কোষে প্রবেশ করায়।
  2. ইনসুলিন সেন্সিটিভিটি বেশি মানে শরীর কম ইনসুলিনেই কাজ করতে পারে।
  3. খারাপ সেন্সিটিভিটি টাইপ ২ ডায়াবেটিস, ওজন বেড়ে যাওয়া ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
  4. ব্যায়াম, ঘুম, স্ট্রেস কমানো, ফাইবারযুক্ত খাবার খাওয়া ইনসুলিন সেন্সিটিভিটি উন্নত করে।
  5. ওমেগা-৩ ফ্যাট ও অন্তঃকালীন উপবাস সহায়ক ভূমিকা রাখে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here