ইলিশ মাছের স্বাস্থ্য উপকারিতার কথা বলে শেষ করা যাবে না। ইলিশ মাছ শুধু স্বাদের জন্যই নয়, পুষ্টিগুণেও অতুলনীয়। এটি ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে ভরপুর, যা হৃদ্রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত ইলিশ খেলে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমে এবং ভালো কোলেস্টেরল (HDL) বাড়ে, ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে ও হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকে।
এছাড়া ইলিশে রয়েছে ভিটামিন-এ, ডি ও বি-১২, যা চোখের স্বাস্থ্য, হাড়ের মজবুতি এবং নার্ভ সিস্টেমের কার্যকারিতায় সহায়ক। ইলিশ মাছের প্রোটিন খুবই সহজপাচ্য, যা পেশি গঠনে এবং কোষ মেরামতে সহায়তা করে।
ইলিশ মাছে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে, যা বার্ধক্য রোধে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে ইলিশ খাওয়া স্মৃতিশক্তি বাড়াতে এবং বিষণ্ণতা কমাতেও কার্যকর হতে পারে। তবে যেহেতু ইলিশ তেলে ভেজে খাওয়ার প্রবণতা বেশি, তাই অতিরিক্ত তেল ও লবণ ব্যবহার না করে স্বাস্থ্যকরভাবে রান্না করাই শ্রেয়। ইলিশ শুধু বাঙালির আবেগ নয়, এটি সঠিকভাবে খাওয়া গেলে এক অনন্য পুষ্টির উৎসও বটে।
ইলিশ মাছের স্বাস্থ্য উপকারিতার ১০টি উদাহরণ
১। মস্তিষ্ক চালু রাখতে ওস্তাদ!
ইলিশে আছে প্রচুর ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড যা:
- স্মৃতিশক্তি উন্নত করে
- মুড ভালো রাখে (ডিপ্রেশন দূর করে)
- আলজহাইমার্স রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে
এটা শুধু মাছ নয়, একেবারে ব্রেইনের জ্বালানি!
২।হার্ট রাখে হাসিখুশি
- ইলিশের ভালো চর্বি (HDL) রক্তনালিতে ফ্যাট জমতে দেয় না
- হৃদস্পন্দন ঠিক রাখে
- হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়
হার্ট যখন ইলিশ পায়, তখন ব্যালেন্সেই থাকে!

৩। ফ্যাটি লিভার ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
- ইলিশে আছে প্রদাহ-রোধক উপাদান
- যকৃতের কোষে চর্বি জমা ঠেকায়
- কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
আপনি যদি কফির ফ্যান হন, আর লিভার ভালো রাখতে চান –
এক পাশে কফি, আরেক পাশে ইলিশ — ব্যাস! আপনি হিরো!
এই মুহূর্তের ট্রেন্ডিং আর্টিকেলগুলো
৪। হাড় ও দাঁত শক্ত রাখে
ইলিশে আছে:
- ক্যালসিয়াম
- ফসফরাস
- ভিটামিন ডি
যা আপনার হাড়কে করে মজবুত আর দাঁত রাখে ঝকঝকে
৫। ত্বক, চুল আর চোখের জন্যেও দারুণ
ভিটামিন এ, ই, এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যাঃ
- ত্বক রাখে প্রাণবন্ত
- চোখের দৃষ্টি ভালো রাখে
- চুল ঝরে যাওয়ার হার কমায়
ইলিশ খেলে চেহারা ঝলমলে হয় – বুড়োও হয়ে যান “স্মার্ট বুড়ো”!
৬। ইমিউন সিস্টেমকে করে শক্তিশালী
প্রোটিন ও ভিটামিন ডিঃ
- শরীরের প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়
- সর্দি-কাশি ও ভাইরাল সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়

৭। শক্তি ও স্ট্যামিনা বাড়ায়
ইলিশের আয়রন ও B-কমপ্লেক্স ভিটামিনঃ
- ক্লান্তি দূর করে
- শরীরে এনার্জি যোগায়
- দৈনন্দিন কাজের পারফরম্যান্স বাড়ায়
৮। মানসিক চাপ ও ডিপ্রেশন কমায়
ওমেগা-৩ ফ্যাটঃ
- মস্তিষ্কে সেরোটোনিন (serotonin) বাড়ায়
- মুড উন্নত করে
- মানসিক প্রশান্তি আনে
এক প্লেট ইলিশ মানে “হ্যাপিনেসের হাই ডোজ”!
৯। রক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখে
ফ্যাটি অ্যাসিড ও মিনারেলঃ
- রক্তনালিকে নমনীয় রাখে
- রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
১০। শিশু ও গর্ভবতী নারীর জন্য পুষ্টিগুণে ভরপুর
ওমেগা-৩ ও DH:
- শিশুর মস্তিষ্ক ও চোখের বিকাশে সহায়ক
- গর্ভবতী মায়ের পুষ্টি ঘাটতি পূরণ করে

ইলিশ খাওয়ার স্বাস্থ্যকর উপায়
রান্না করুন কম তেলে – সর্ষে দিয়ে পাতলা ঝোল বা ভাপে
গ্রিলড ইলিশ – বিদেশি টাচে দেশি ঐতিহ্য
ইলিশ পোলাও – মাঝে মাঝে বাঙালি রাজকীয়তা চালু থাকুক!
তবে মনে রাখবেন:
- অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয় — সপ্তাহে ১-২ বার যথেষ্ট
- ডায়াবেটিক বা হাই কোলেস্টেরল থাকলে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করে খেতে পারেন
শেষ কথা
ইলিশ মাছের স্বাস্থ্য উপকারিতা অসংখ্য, যেমনঃ
ইলিশ হলো হার্টের খাবার এবং শরীরের তাবিজ!
বাঙালির পাত-ভরা ইলিশ কেবল রসনার জন্য নয়,
এটা আপনার হার্ট, লিভার আর ব্রেইনেরও বেস্ট ফ্রেন্ড!
Sources:
S Quazi, M Mohiduzzaman, M Mostafizur Rahman, S M Keramat Ali. (2024). Effect of hilsa (Tenualosa ilisha) fish in hypercholesterolemic subjects. PubMed. https://pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/7880151/
Mayo Clinic Staff. (2023). Omega-3 in fish: How eating fish helps your heart. Mayo Clinic. https://www.mayoclinic.org/diseases-conditions/heart-disease/in-depth/omega-3/art-20045614
Akm Nowsad Alam, Bimal Prasanna Mohanty, Enamul Hoq, Shakuntala Haraksingh Thilsted. (2012). Nutritional values, consumption and utilization of Hilsa Tenualosa ilisha (Hamilton 1822). ResearchGate. https://www.researchgate.net/publication/236278853_Nutritional_values_consumption_and_utilization_of_Hilsa_Tenualosa_ilisha_Hamilton_1822








