আম, দুধ আর মুড়ির প্রেম যেন বাঙালির মাটির ঘ্রাণ – একসাথে মাখলেই জন্ম নেয় স্মৃতি, স্বাদ আর নিখাদ ভালোবাসা।
অধ্যায় ১: গ্রীষ্মের প্রথম দেখা
জ্যৈষ্ঠের দুপুর। সূর্যের আগুনে কাঁপছে শহর। হঠাৎ হিম ঘর থেকে বেরিয়ে এল দুধ – ঠাণ্ডা, ধবধবে, অভিজাত এক প্রেমিক।
ওদিকে খোসা ছাড়িয়ে এক থালায় জ্বলজ্বল করছে আম – রসে টইটম্বুর, গন্ধে মাতাল।
আর এক কোণে বসে আছে মুড়ি – হালকা, খসখসে, কথায় কথায় হেসে ফেলে এমন সহজ-সরল।
এই তিনজনের প্রথম দেখা হয়েছিল রান্নাঘরের টেবিলে – মায়ের হাতে। কিন্তু হৃদয়ের দেখা? সেটা ঘটল সেই মুহূর্তে, যখন তারা প্রথম একসাথে মিশে গেল এক বাটিতে।
অধ্যায় ২: হৃদয়টা মুড়ি করে গেছে
মুড়ি, এই গল্পের “ছোটলোক” প্রেমিক, চুপচাপ দুধের দিকে তাকিয়ে থাকে।
“কি অপূর্ব তুমি!” ভাবে সে।
কিন্তু দুধের মন পড়ে আছে আমের দিকে।
“তোমার সোনালি সৌন্দর্য্যে আমি হার মানি,” বলে দুধ।
আম মুচকি হেসে ভাবে,
“আহা রে, এই প্রেমে কী মিষ্টি বিশৃঙ্খলা!”
তিনজনই জানে না, তারা একে অপরকে ছাড়তে পারবে না। কারণ বাঙালির মুখে একবার ঢুকলে, আর কে কাকে আলাদা করে?
অধ্যায় ৩: চিনি দিয়ে জমে উঠল প্রেম
চুপিচুপি এক চামচ চিনি এসে বলল,
“তোমাদের সম্পর্কটা আমি মধুর করে দেব!”
মুড়ি একটু লাজুক,
“আমি তো শুকনো ছেলে, আমাকে কি ভালোবাসবে?”
দুধ আশ্বাস দিল,
“তুমি না থাকলে, আমি শুধু তরল! তুমি আমার গঠন।”
আর আম? সে শুধু হাসল।
“চিনির মত, তোমরা সবাই আমার সাথে মিলেই তো পরিপূর্ণতা পাও।”
ওই মুহূর্তে, তারা বুঝল – এ শুধু ত্রিভুজ প্রেম নয়, এটা হলো এক অমোঘ খাদ্যবন্ধন!
অধ্যায় ৪: এক চামচে মিলন
যখন তিনজন মিলে গেল এক বাটিতে — আরেকটু চিনি, একটু নরম মুড়ি, আর এক চুইয়ে পড়া আম — তখন তাদের প্রেম আর গল্প নয়, বাস্তবতা হয়ে গেল।
এক বালক এসে প্রথম চামচে তুলল এই প্রেমমিশ্রণ। তার মুখে লেগে গেল এক ধরনের চিরন্তন হাসি।
সে বলল,
“এটা তো স্বর্গ!”
এমনকি তার দাদিও বললেন,
“এই তো বাঙালির প্রথম প্রেম। খাও, প্রাণ ভরে খাও।”
অধ্যায় ৫: স্মৃতির স্বাদ
বছর ঘুরে গেছে। আমের মৌসুম আসে, যায়।
দুধ প্রতিদিন আসে ফ্রিজ থেকে।
মুড়ি ঝুড়িতে থাকে, প্রস্তুত।
তবে সেই একসাথে মাখানো স্বাদ, সেই মিলনের মুহূর্ত – এখনো ফিরে আসে মনের মাঝে।
কারণ, এ প্রেম শুধু জিভের নয় – এ প্রেম বাঙালির শিকড়ে গাঁথা।








