Home অসুখ-বিসুখ ডায়াবেটিস: মিষ্টির বিরুদ্ধে এক মিষ্টি যুদ্ধ!

ডায়াবেটিস: মিষ্টির বিরুদ্ধে এক মিষ্টি যুদ্ধ!

195
0
ডায়াবেটিস

জীবনে মিষ্টি খাওয়া দোষের না, তবে শরীর যখন বলে “থামো ভাই, আর পারছি না” – তখনই আসে ডায়াবেটিস! এটা হলো শরীরের এমন এক অবস্থা, যেখানে রক্তে গ্লুকোজের (blood sugar) পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এই অবস্থায় আপনার শরীরের ইনসুলিন হাল ছেড়ে দেয় বা তার কাজ ঠিকমতো করে না। ফলাফল? মিষ্টির সাথে এমন এক সম্পর্ক, যা অনেকটা এক্স-এর মতো – “চিরদিনের জন্য সাবধান!”

ডায়াবেটিস কী?

ডায়াবেটিস (Diabetes Mellitus) হলো একধরনের দীর্ঘস্থায়ী রোগ, যেখানে শরীর গ্লুকোজকে (blood sugar) ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারে না। এর প্রধান দুই রকমফের:

টাইপ-১ ডায়াবেটিস: শরীর একদমই ইনসুলিন তৈরি করে না। এটা সাধারণত ছোটবেলা বা কৈশোরে ধরা পড়ে।

টাইপ-২ ডায়াবেটিস: শরীর ইনসুলিন তৈরি করলেও সেটা ঠিকভাবে কাজ করে না। এটা বড়দের “বেস্টসেলার” ভার্সন।

জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস: গর্ভাবস্থায় দেখা দেয়, আর একে বলা হয় “অস্থায়ী অতিথি” (যদিও এ অতিথি পরে বাসা বাধতে পারে!)।

ডায়াবেটিস কেন হয়?

  1. বংশগত কারণ: মা-বাবা ডায়াবেটিক হলে আপনিও হতে পারেন “শ্রদ্ধেয় উত্তরসূরি”।
  2. অতিরিক্ত ওজন: ওজন যদি এমন হয় যে দাঁড়িপাল্লা কাঁদে, তাহলে সাবধান!
  3. অলস জীবনধারা: শরীর যদি শুধু সোফায় বসে Netflix দেখে, ইনসুলিনও কর্মবিরতি নেবে।
  4. জাঙ্ক ফুড প্রেম: বার্গার, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, আর কোক – এরা হলো “ডায়াবেটিসের তিন বন্ধুর” নাম।
  5. চাপ আর স্ট্রেস: মন খারাপ থাকলে মিষ্টি খাই, আর মিষ্টি খেলে ডায়াবেটিস – মনের উপরও নজর রাখতে হবে।

উপসর্গগুলো কী?

ডায়াবেটিস প্রথম দিকে চুপিচুপি আসে। কিন্তু কিছু সিগন্যাল থাকে:

বারবার প্রস্রাব: আপনি যদি অফিসে বেশি সময় টয়লেটে কাটান, বস সন্দেহ করতে পারে।

অতিমাত্রায় পিপাসা: বোতল ওয়াটার শেষ, তাও তৃষ্ণা যায় না!

অতিরিক্ত ক্ষুধা: “ভাত খেলাম, ৩০ মিনিট পরে আবার ক্ষুধা লাগল” – এটা কিন্তু অস্বাভাবিক।

ওজন কমে যাওয়া: খাওয়ার পরও শুকাতে থাকলে, এটা ওজন কমানোর ডায়েট না, বরং বিপদের সিগন্যাল।

ঘনঘন সংক্রমণ: কাটা-ছেঁড়ায় দেরিতে ভালো হওয়া বা ইনফেকশন বারবার হওয়া।

চোখ ঝাপসা: মোবাইলের ফন্ট বড় করার সময় এসে গেছে নাকি?

ইনসুলিন: রক্তে শর্করার “গেটম্যান”

ইনসুলিন হলো প্যানক্রিয়াস নামক শরীরের একটা সুপারহিরো অঙ্গের তৈরি করা হরমোন। এর কাজ? গ্লুকোজকে রক্ত থেকে টেনে নিয়ে কোষে পৌঁছে দেওয়া যেন সেটি শক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

যদি ইনসুলিন ঠিকভাবে না আসে বা কাজ না করে, গ্লুকোজ রক্তে জমা হতে থাকে আর তখনই ডায়াবেটিস শুরু হয়। ইনসুলিনকে আপনি ধরতে পারেন – শরীরের “সুইট পুলিশ”!

টাইপ-১ ডায়াবেটিসে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়।

টাইপ-২ ডায়াবেটিসে অনেক সময় ওষুধেই কাজ হয়, তবে প্রয়োজনে ইনসুলিনও লাগে।

জীবনধারা পরিবর্তনই আসল ওষুধ!

ব্যালেন্সড ডায়েট: মিষ্টি খাবার কমিয়ে সবজি, প্রোটিন আর আঁশযুক্ত খাবার খান।

ব্যায়াম: দিনে ৩০ মিনিট হাঁটা বা শরীরচর্চা ইনসুলিনকে খুশি রাখে।

ওজন নিয়ন্ত্রণ: আপনার কোমরের সাইজ যদি পিঠার মতো হয়, তবে এখনই সময় সেলাই করার!

স্ট্রেস কমান: যোগব্যায়াম, মেডিটেশন বা হাসির ক্লাব – সবই কাজে আসতে পারে।

রেগুলার চেকআপ: ফাস্টিং ও HbA1c টেস্ট যেন হয় নিয়মিত।

সারসংক্ষেপ

  1. ডায়াবেটিস হলো এমন এক অবস্থা যেখানে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়।
  2. টাইপ-১ ও টাইপ-২ হলো প্রধান ধরনের ডায়াবেটিস।
  3. ইনসুলিন হলো এমন হরমোন যা গ্লুকোজকে কোষে পৌঁছায়।
  4. উপসর্গগুলো হচ্ছে – ঘন ঘন প্রস্রাব, অতিরিক্ত ক্ষুধা ও তৃষ্ণা, ওজন কমা, ঝাপসা দেখা ইত্যাদি।
  5. জীবনধারা পরিবর্তন, ওজন নিয়ন্ত্রণ, ডায়েট ও ব্যায়াম এই রোগ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here