ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সেহরি ও ইফতারের খাবার তালিকা পরিকল্পিত হলে জটিল শর্করা, প্রোটিন, ফাইবার ও পরিমিত ফল রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
ডায়াবেটিস নিয়ে রোজা রাখা মানে একটু কৌশলী খেলা। ভুল খাবার মানে রক্তে শর্করা রোলার কোস্টার – কখনও খুব বেশি, কখনও খুব কম। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা থাকলে রমজান মাস সুন্দর ও নিরাপদভাবে কাটানো সম্ভব।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সেহরি ও ইফতারের খাবার তালিকা
রমজানে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সেহরি ও ইফতারে কী খাবেন, কতটুকু খাবেন এবং কী এড়িয়ে চলবেন – এসব জানা থাকলে ঝুঁকি অনেক কমে যায়।
প্রথমেই গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
সব ডায়াবেটিস রোগী রোজা রাখতে পারবেন না।
যাদের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি:
- ইনসুলিন নির্ভর রোগী
- বারবার হাইপোগ্লাইসেমিয়া হয়
- কিডনি সমস্যা আছে
- গর্ভবতী নারী
- গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তি
রোজা শুরুর আগে অবশ্যই চিকিৎসকের সাথে কথা বলা প্রয়োজন।
রোজায় ডায়াবেটিসের মূল ঝুঁকি কী?
১️. হাইপোগ্লাইসেমিয়া (রক্তে শর্করা খুব কমে যাওয়া)
২️. হাইপারগ্লাইসেমিয়া (রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়া)
৩️. ডিহাইড্রেশন (পানি শূণ্যতা)
৪️. ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা
এই ঝুঁকি এড়াতে সুষম খাবার ও নিয়মিত মনিটরিং জরুরি।
সেহরির খাবার তালিকা (ধীরে শক্তি দেবে, শর্করা স্থিতিশীল রাখবে)

সেহরি হচ্ছে দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার।
১️। জটিল শর্করা (নিম্ন মাত্রার GI সমৃদ্ধ)
✔ লাল চালের ভাত (অল্প পরিমাণ)
✔ আটার রুটি
✔ ওটস
✔ ডালিয়া
এই খাবার ধীরে হজম হয় এবং রক্তে শর্করা হঠাৎ বাড়ায় না।
যেসব খাবার খাবেন না
❌ সাদা ভাত বেশি পরিমাণে
❌ পরোটা
❌ সেমাই
❌ মিষ্টি
এই রমজানে আমাদের কাছ থেকে অনলাইনে ১ নম্বর কালমি মরিয়ম খেজুর কিনতে চাইলে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন। মূল্য: ১ কেজি ৳১১০০, ৩ কেজির সৌদি আরবের ইন্ট্যাক্ট বক্স ৳২৭০০, ৫ কেজির সৌদি আরবের ইন্ট্যাক্ট বক্স ৳৪৮০০ ।
কালমি মরিয়ম/সাফাভি খেজুর – Bangla Diet
২️। প্রোটিন (খুবই গুরুত্বপূর্ণ)
✔ সেদ্ধ ডিম
✔ ডাল
✔ গ্রিল করা মুরগি
✔ মাছ
✔ দই (চিনি ছাড়া)
প্রোটিন রক্তে শর্করার ওঠানামা কমাতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে।
৩️। স্বাস্থ্যকর চর্বি
✔ বাদাম (২–৩টি)
✔ আখরোট
✔ অল্প অলিভ অয়েল
এগুলো শক্তি দেয় এবং গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
৪️। সবজি
✔ লাউ
✔ করলা
✔ ঝিঙে
✔ পালং শাক
কম মসলায় রান্না করা সবজি ফাইবার দেয়, যা শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
৫️। পানি
সেহরিতে ২–৩ গ্লাস পানি ধীরে ধীরে পান করুন।
চা-কফি কমান – এগুলো প্রস্রাব বাড়িয়ে শরীর পানিশূন্য করতে পারে।
একটি আদর্শ সেহরি প্লেট

১-২টি আটার রুটি
১টি সেদ্ধ ডিম
১ কাপ সবজি
১ কাপ ডাল
১ কাপ চিনি ছাড়া দই
২–৩ গ্লাস পানি
ইফতারের খাবার তালিকা

ইফতার হলো সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময়। সারাদিন না খেয়ে থাকার পর হঠাৎ বেশি খেলে রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।
এই রমজানে আমাদের কাছ থেকে অনলাইনে সৌদি আরব থেকে আমদানিকৃত ১ নম্বর সুক্কারি মুফাত্তাল খেজুর কিনতে চাইলে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন। মূল্যঃ ১ কেজি ৳৯৯৯, ৩ কেজির সৌদি আরবের ইন্ট্যাক্ট বক্স ৳২৪০০, ৬ কেজি বক্স ৳৪৫০০ ।
সুক্কারি মুফাত্তাল খেজুর – Bangla Diet
ইফতার শুরু করুন এভাবে
✔ ১টি খেজুর (একটির বেশি নয়)
✔ ১ গ্লাস পানি
খেজুরে প্রাকৃতিক চিনি থাকে – তাই সীমিত পরিমাণ জরুরি।
এরপর ১০–১৫ মিনিট বিরতি
নামাজ পড়ুন বা হালকা হাঁটুন। এতে শরীর ধীরে খাবার গ্রহণে প্রস্তুত হয়।
ইফতারের হালকা খাবার
✔ ফল (আপেল, পেয়ারা, পেঁপে)
✔ অল্প ছোলা (কম তেল)
✔ সবজি স্যুপ
যেসব খাবেন না:
❌ বেগুনি
❌ পেঁয়াজু
❌ সমুচা
❌ কোল্ড ড্রিংক
এগুলো রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়ায়।
রাতের মূল খাবার

✔ অল্প লাল ভাত বা ১-২ রুটি
✔ মাছ বা মুরগি
✔ সবজি
✔ সালাদ
খাবার ধীরে খান এবং অতিভোজন করবেন না।
কতটুকু ফল খাবেন?
একবারে অনেক ফল খাবেন না।
এক সার্ভিং মানে:
- ১টি ছোট আপেল
- ১টি মাঝারি কমলা
- ১ কাপ পেঁপে
ফলের রস নয় – পুরো ফল খান।
রক্তে শর্করা মনিটরিং
রমজানে নিয়মিত গ্লুকোমিটার দিয়ে পরীক্ষা করুন।
✔ সেহরির আগে
✔ বিকেলে
✔ ইফতারের ২ ঘণ্টা পর
রক্তে শর্করা খুব কমে গেলে রোজা ভাঙা উচিত
কখন রোজা ভাঙবেন?
✔ শর্করা ৭০ mg/dL এর নিচে
✔ ৩০০ mg/dL এর বেশি
✔ মাথা ঘোরা
✔ অতিরিক্ত দুর্বলতা
✔ ঝাপসা দেখা
স্বাস্থ্য সবার আগে।
ওষুধের সময় পরিবর্তন
রমজানে ওষুধের সময়সূচি বদলাতে হতে পারে।
এটি অবশ্যই চিকিৎসকের নির্দেশনায় করতে হবে।

সাধারণ ভুল
❌ সেহরি না খাওয়া
❌ ইফতারে অতিভোজন
❌ কোল্ড ড্রিংক পান
❌ সারাদিন না নড়াচড়া করা
❌ রক্তে শর্করা পরীক্ষা না করা
ব্যায়াম করবেন কি?
হালকা হাঁটা ভালো।
ইফতারের ১-২ ঘণ্টা পর ২০-৩০ মিনিট হাঁটা উপকারী।
শেষ কথা
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য রমজান মানে ভয় নয় – সঠিক পরিকল্পনা।
জটিল শর্করা, পর্যাপ্ত প্রোটিন, ফাইবার, পরিমিত ফল, নিয়মিত মনিটরিং – এই পাঁচটি নিয়ম মানলে রোজা নিরাপদ হতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা – নিজের শরীরের কথা শুনুন। অসুস্থ লাগলে রোজা ভাঙুন। ইসলাম কখনও কষ্ট দিয়ে ইবাদত চায় না।








