গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকলে রমজান মাসে সেহরি ও ইফতারে কম তেল-মসলা, পরিমিত খাবার, পর্যাপ্ত পানি এবং ধীরে খাওয়ার অভ্যাস পেটকে আরাম দেয়।
রমজান মাসে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে অনেকের গ্যাস্ট্রিক, অ্যাসিডিটি, বুকজ্বালা, পেট ফাঁপা বা বমিভাব বেড়ে যায়। যাদের আগে থেকেই গ্যাস্ট্রিক বা আলসারের প্রবণতা আছে, তাদের জন্য সেহরি ও ইফতারের খাবার নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভুল খাবার খেলে পুরো রাতটাই অস্বস্তিতে কাটতে পারে।
ভালো খবর হলো – কিছু সচেতন সিদ্ধান্ত নিলেই রমজান মাসটা স্বস্তিতে পার করা সম্ভব।
কেন রোজায় গ্যাস্ট্রিক বাড়ে?
খালি পেটে দীর্ঘ সময় থাকলে পাকস্থলীতে অ্যাসিড জমতে থাকে। সাধারণ সময়ে আমরা কিছু না কিছু খাই, ফলে অ্যাসিড খাবার হজমে ব্যস্ত থাকে। কিন্তু রোজায় দীর্ঘ সময় না খেলে সেই অ্যাসিডই পাকস্থলীর দেয়ালে জ্বালা তৈরি করে।
এর সাথে যদি যোগ হয় অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, বেশি ঝাল, কোল্ড ড্রিংকস, অতিরিক্ত চা/কফি, ইফতারে অতিভোজন, তাহলে সমস্যা আরও বাড়ে।

সেহরিতে কী খাবেন?
সেহরি হচ্ছে দিনের “ফাউন্ডেশন মিল”। ঠিক খাবার না খেলে সারাদিন অস্বস্তি নিশ্চিত।
১। জটিল শর্করা (Complex Carbohydrate)
যেমন:
- লাল চালের ভাত
- ওটস
- আটার রুটি
- খিচুড়ি (কম মসলা)
এগুলো ধীরে হজম হয় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। সাদা ভাতের তুলনায় লাল চাল বেশি উপকারী।
২। প্রোটিন
- ডিম (সেদ্ধ হলে ভালো)
- ডাল
- মুরগির মাংস (কম তেলে রান্না)
- দই
প্রোটিন দীর্ঘ সময় ক্ষুধা কমায় এবং অ্যাসিডের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে।
৩। শাকসবজি
- লাউ
- ঝিঙে
- পেঁপে
- পালং শাক
কম মসলায় রান্না করা সবজি গ্যাস্ট্রিকের জন্য খুবই উপকারী।
৪। কলা ও দই
কলা পাকস্থলীর অ্যাসিডকে নিরপেক্ষ করতে সাহায্য করে।
দই অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়া বাড়ায়, হজম সহজ করে।
৫। পর্যাপ্ত পানি
সেহরিতে ২–৩ গ্লাস পানি ধীরে ধীরে পান করুন।
একসাথে অনেক পানি না খেয়ে ভাগ করে খান।
সেহরিতে যা এড়িয়ে চলবেন
❌ ভাজাপোড়া
❌ অতিরিক্ত ঝাল
❌ কফি
❌ কোমল পানীয়
❌ অতিরিক্ত চা
❌ অতিরিক্ত মাংস

আমাদের কাছ থেকে অনলাইনে ১ নম্বর কালমি মরিয়ম খেজুর কিনতে চাইলে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন। মূল্য: ১ কেজি ৳১১০০, ৩ কেজির সৌদি আরবের ইন্ট্যাক্ট বক্স ৳২৭০০, ৫ কেজির সৌদি আরবের ইন্ট্যাক্ট বক্স ৳৪৮০০ ।
কালমি মরিয়ম/সাফাভি খেজুর – Bangla Diet
ইফতারে কী খাবেন?
ইফতারে অনেকেই সারাদিনের ক্ষুধা একবারে মেটাতে গিয়ে ভুল করেন। এতে গ্যাস্ট্রিক আরও বাড়ে।
ইফতার শুরু করুন হালকা খাবার দিয়ে
১। খেজুর
১-২টি খেজুর যথেষ্ট। অতিরিক্ত খেলে রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়ে।
২। পানি বা লেবুর শরবত
চিনি ছাড়া লেবুর পানি ভালো।
ঠান্ডা কোল্ড ড্রিংক এড়িয়ে চলুন।
৩। ফল
- তরমুজ
- পেঁপে
- আপেল
- পেয়ারা
ফল সহজপাচ্য এবং গ্যাস্ট্রিক কমাতে সাহায্য করে।
৪। ছোলা, কিন্তু সীমিত
ছোলা প্রোটিনসমৃদ্ধ, তবে বেশি খেলে গ্যাস হতে পারে।
কম তেল ও কম মসলা ব্যবহার করুন।
৫। স্যুপ
সবজি স্যুপ বা চিকেন স্যুপ খুব ভালো অপশন।
গরম ও হালকা খাবার পাকস্থলীকে আরাম দেয়।
মূল খাবার (নামাজের পর)
ইফতারের পর বিরতি দিয়ে রাতের খাবার খান।
- ভাত বা রুটি (পরিমিত)
- কম তেলের তরকারি
- মাছ বা মুরগি
- সবজি
বিরিয়ানি বা অতিরিক্ত ভাজাপোড়া প্রতিদিন খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
কোন খাবার গ্যাস্ট্রিক বাড়ায়?
- বেগুনি, পেঁয়াজু, সমুচা (অতিরিক্ত তেলে ভাজা)
- কোল্ড ড্রিংক
- অতিরিক্ত মিষ্টি
- ঝাল চাটনি
- অতিরিক্ত গরুর মাংস
রমজান মানেই প্রতিদিন ভাজাপোড়া – এই ধারণা বদলাতে হবে।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস
✔ ধীরে ধীরে খান
হঠাৎ বেশি খেলে পাকস্থলী চাপ অনুভব করে।
✔ খাবারের পর সাথে সাথে শুয়ে পড়বেন না
কমপক্ষে ১-২ ঘণ্টা বিরতি দিন।
✔ ছোট ছোট মিল নিন
ইফতার–ডিনার–হালকা রাতের নাস্তা ভাগ করে নিন।
✔ ওষুধ সঠিক সময়ে
যাদের নিয়মিত গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ আছে, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সময় ঠিক করুন।
✔ মানসিক চাপ কমান
স্ট্রেসও অ্যাসিড বাড়ায়। ইবাদত, হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম উপকারী।
কারা বেশি সতর্ক থাকবেন?
- আলসার রোগী
- গুরুতর অ্যাসিড রিফ্লাক্স
- ফ্যাটি লিভার রোগী
- দীর্ঘদিনের গ্যাস্ট্রিক সমস্যা আছে এমন ব্যক্তি
প্রয়োজনে চিকিৎসকের সাথে কথা বলে রোজার পরিকল্পনা করুন।
একটি সহজ সেহরি-ইফতার নমুনা প্ল্যান

সেহরি
- ১ কাপ লাল ভাত বা ২টা রুটি
- ১টা সেদ্ধ ডিম
- ১ কাপ সবজি
- ১টা কলা
- ১ কাপ দই
- ২–৩ গ্লাস পানি

আমাদের কাছ থেকে অনলাইনে সৌদি আরব থেকে আমদানিকৃত ১ নম্বর সুক্কারি মুফাত্তাল খেজুর কিনতে চাইলে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন। মূল্যঃ ১ কেজি ৳৯৯৯, ৩ কেজির সৌদি আরবের ইন্ট্যাক্ট বক্স ৳২৪০০, ৬ কেজি বক্স ৳৪৫০০ ।
সুক্কারি মুফাত্তাল খেজুর – Bangla Diet
ইফতার
- ১–২টা খেজুর
- ১ গ্লাস লেবুর পানি
- ফল
- অল্প ছোলা
- স্যুপ
রাতের খাবার
- পরিমিত ভাত
- মাছ
- সবজি
শেষ কথা
রমজানে গ্যাস্ট্রিক সমস্যা হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু সঠিক খাবার নির্বাচন ও নিয়ম মেনে চললে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। মনে রাখবেন – রমজান শুধু ইবাদতের মাস নয়, এটি শরীরকে ডিটক্স ও শৃঙ্খলায় আনারও সুযোগ।
অতিরিক্ত ভাজাপোড়া আর কোল্ড ড্রিংক দিয়ে পেটকে যুদ্ধক্ষেত্র বানানোর দরকার নেই। একটু সচেতনতা মানেই আরামদায়ক রোজা।








