প্রেশার যখন হাই, তখন হার্ট যেন অতিরিক্ত ওভারটাইম খাটে, চোখ ঝাপসা হয়, মাথা ধরে আর শরীর চিৎকার করে বলে, “বাঁচাও!”
– এক হাই ভোল্টেজ রক্তচাপের মজাদার (কিন্তু সিরিয়াস) গল্প!
বসের বকাঝকা, অফিসের ডেডলাইন, বাচ্চার পড়াশোনা, বাজারের দাম…
এইসব মিলিয়ে মাথার ভেতরে যদি মনে হয় “পটকা ফুটতে” চলেছে, তাহলে সাবধান! এটা হতে পারে উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেশার!
চাকরির প্রেসার, ইন-ল’র প্রেশার, প্রেমের প্রেশার – সব চলবে।
কিন্তু যদি সিস্টোলিক-ডায়াস্টোলিক ভাইয়েরা একসাথে মাথায় উঠে বসে, তখন শরীর বলে, “আমি আর পারছি না!”
উচ্চ রক্তচাপ কী?
রক্ত যখন রক্তনালীতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চাপ দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন তাকে বলে উচ্চ রক্তচাপ।
আরও সহজভাবে বলি –
- সিস্টোলিক প্রেশার (উপরের সংখ্যা): হার্ট যখন রক্ত পাম্প করে
- ডায়াস্টোলিক প্রেশার (নিচের সংখ্যা): হার্ট যখন বিশ্রামে থাকে
স্বাভাবিক রিডিং: ১২০/৮০ mmHg
উচ্চ রক্তচাপ ধরা পড়ে যখন: ১৪০/৯০ mmHg বা তার বেশি!
উচ্চ রক্তচাপের উপসর্গ – নীরব ঘাতক!
এই রাক্ষসটা লুকিয়ে লুকিয়ে আঘাত করে। বেশিরভাগ সময় কোনো উপসর্গই থাকে না। তবে মাঝে মাঝে দেখা যায়:
- মাথাব্যথা
- ঝাপসা দেখা
- ঘাড়ে টান বা ব্যথা
- ক্লান্তিভাব
- বুক ধড়ফড়
অনেকেই ভাবে “মাথা একটু ধরেছে”, কিন্তু ভেতরে ভেতরে হার্ট, কিডনি, চোখ, এমনকি মস্তিষ্কেও হামলা চলছে!

কী কারণে হয় উচ্চ রক্তচাপ?
একটা রক্তচাপের প্রেমকাহিনি খুলে বলি:
১. অতিরিক্ত লবণ = সম্পর্ক নষ্ট!
খাবারে বেশি লবণ মানেই রক্তে পানি আটকে থাকে → চাপ বেড়ে যায়! তাই “নুন কমাও, রক্ত বাঁচাও!”
২. অলসতা = ব্লাড প্রেসারের পাসওয়ার্ড
শরীর নড়াচড়া না করলে রক্ত ঘুরে না, তখন হার্ট বলে, “আর কত পাম্প করবো রে ভাই!”
৩. বাজে খাবার = হার্টের বদহজম!
ফাস্ট ফুড, ভাজাপোড়া, ট্রান্স ফ্যাট – এগুলো শুধু ওজনই বাড়ায় না, ব্লাড প্রেশারও “টুপ করে” লাফিয়ে ওঠে!
৪. ধূমপান আর মদ্যপান = প্রেশারের জ্বালানি
এই দুই বন্ধু উচ্চ রক্তচাপকে পাখা লাগিয়ে দেয়! একে বলে “অবৈধ সম্পর্ক”!
৫. বংশগত ফাঁস!
মা-বাবার জিনে যদি হাই প্রেশার থাকে, তাহলে সন্তানও “চাকরি পাওয়ার আগে হাই ব্লাড প্রেসারে ভুগতে” পারে!
উচ্চ রক্তচাপ কমানোর কিছু গোপন অস্ত্র
১. খাওয়ার প্লেট হোক সবুজ!
সবজি, ফল, লো-ফ্যাট দুগ্ধজাত খাবার – এগুলো রক্তচাপকে শান্ত রাখে। ডায়েটের নামই “DASH”! (Dietary Approaches to Stop Hypertension)
২. হাঁটা চলা করো, হার্ট খুশি রাখো!
প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটলে হার্টের কষ্ট অনেকটাই কমে যায়।
৩. স্ট্রেসে নয়, শান্তিতে থাকো!
মেডিটেশন, মিউজিক, ম্যাসেজ — স্ট্রেসকে “নট নাওয়” করে ফেলো!
৪. ওজন কমাও, প্রেশার কমবে!
ভুঁড়ি বড় হলে প্রেশারও চিৎকার করে বলে, “আমি বাড়বো!”
৫. লবণ খাওয়ায় ব্রেক দাও!
প্রতিদিন ৫ গ্রামের কম লবণ খাওয়ার চেষ্টা করুন। (মানে এক চা চামচের কম)
উচ্চ রক্তচাপের ভয়ঙ্কর পরিণতি
- হার্ট অ্যাটাক
- স্ট্রোক
- কিডনি বিকল
- চোখের ক্ষতি
- মৃত্যুঝুঁকি
এই অসুখটা আস্তে আস্তে শরীরের “ইন্টারনাল ওয়ার্ল্ড ওয়ার” শুরু করে দেয়!
কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?
- বারবার মাথা ধরে
- রক্তচাপ ১৪০/৯০ বা তার বেশি থাকে
- চোখে ঝাপসা দেখেন
- বুক ধড়ফড় করে
- পরিবারের ইতিহাসে উচ্চ রক্তচাপ আছে
উপসংহার
হাই ব্লাড প্রেশার মানে আপনি হয়তো সিরিয়াস নন, কিন্তু আপনার শরীর সিরিয়াস হয়ে পড়েছে!
এটা এমন এক বন্ধু — যাকে আপনি সময় না দিলে, সে আপনাকে সময় দিবে না… বরং এম্বুলেন্স ডাকবে!
তথ্যসংক্ষেপ
- উচ্চ রক্তচাপ তখন হয় যখন রক্ত স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চাপ দিয়ে প্রবাহিত হয়।
- আদর্শ রিডিং: ১২০/৮০ mmHg; উচ্চ: ১৪০/৯০ mmHg বা বেশি।
- অধিকাংশ সময় উপসর্গ বোঝা যায় না।
- বেশি লবণ, ধূমপান, অলসতা, বাজে খাবার ও ওজন বেড়ে গেলে ঝুঁকি বাড়ে।
- ফলমূল, ব্যায়াম, স্ট্রেস কমানো ও ওজন নিয়ন্ত্রণ হাই প্রেসার কমাতে সাহায্য করে।
- উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ না করলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, কিডনি সমস্যা, অন্ধত্ব এমনকি মৃত্যু হতে পারে।








